শবে বরাত প্রান্তিকতামুক্ত প্রামাণ্য একটি পর্যালোচনা
প্রতি বছর শাবানের পনেরো তারিখ আসলেই এটাকে কেন্দ্র করে পক্ষে-বিপক্ষে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলতে থাকে। কারও মতে এটা শবে কদরের মতোই বা তার চেয়েও দামী একটি রাত। আর ভিন্ন আরেক দলের নিকট এটা একেবারেই সাধারণ একটি রাত, যার বিশেষ কোনো ফজিলত বা গুরুত্ব নেই। আসলে বিষয়টি সম্পর্কে অজ্ঞতা কিংবা সঠিক পর্যালোচনার অভাবেই মানুষের মাঝে এমন ভুল ধারণার প্রসার ঘটেছে।
এ বিষয়ে যেমন অধিক বাড়াবাড়ি কাম্য নয়, ঠিক তেমনই বেশি ছাড়াছাড়িও উচিত নয়। উভয় প্রান্তিকতাই বর্জনযোগ্য। বক্ষ্যমাণ প্রবন্ধটিতে আমরা কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে এ বিষয়ে পূর্ণ সততা ও সতর্কতার সাথে একটি তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ তুলে ধরছি। আশা করছি, এতে শবে বরাতে আমাদের করণীয় ও বর্জনীয় সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাওয়া যাবে।
আমাদের দেশে শবে বরাত নিয়ে মৌলিকভাবে তিনটি বিষয়ে বিতর্ক হয়ে থাকে। এক. শবে বরাতের ফজিলত থাকা ও না থাকা নিয়ে। দুই. শবে বরাতে একাকী বা সম্মিলিতভাবে ইবাদত করা ও না করা নিয়ে। তিন. শবে বরাতের পরের দিন রোজা রাখা ও না রাখা নিয়ে। পাশাপাশি শবে বরাতকে কেন্দ্র করে আরেকটি শ্রেণি বিভিন্ন রুসম-রেওয়াজ ও বিদআত নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে, যা কুরআন-সুন্নাহ ও সালাফের আমল থেকে প্রমাণিত নয়। মোটকথা, এটা নিয়ে মানুষের মাঝে প্রচুর পরিমাণে বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ি রয়েছে। প্রত্যেকেই নিজ ঘরানার বড়দের কথা বা ফতোয়াকে দলিল হিসেবে পেশ করে, যার কারণে নিরপেক্ষ শ্রেণির লোকেরা এ ব্যাপারে সঠিক ফয়সালা জানতে পারে না।

Post a Comment