Join Our Telegram Channel! আওয়ামী লীগ সরকারের এতো মনোবলের উৎস কী?

Top News

আওয়ামী লীগ সরকারের এতো মনোবলের উৎস কী?



১) শেখ হাসিনা ওনার পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুর জন্য খুব সম্ভবত এই দেশের মানুষকে দায়ী করেন। সেই রাগ ও জিদ ওনাকে প্রতিদিন সামনে এগিয়ে নিয়ে যায়। এবং উনি থামার কথা চিন্তা করেন না। ঐ ঘটনাটি, এবং সেই ঘটনা থেকে জন্ম নেয়া প্রতিহিংসা ওনাকে ড্রাইভ করে। কাকে দোষী সাব্যস্ত করবেন সেটি আপনার ব্যপার, কিন্তু চিন্তা করেন এই ১৯৭৫ এর আগস্টের ঘটনা যদি আপনার বেলায় ঘটত, আপনি কি করতেন? আমিতো প্রতিশোধ চাইতাম।

২) চুরি-চামারি, দুর্নীতি, বিদেশে টাকা পাচার এসব নানা অভিযোগ ওনার দলের নানা নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে আছে। শেখ হাসিনার গত ৫/৭ বছরের ব্যবহারে কি আপনার কোনোদিন মনে হয়েছে যে উনি নিজে টাকাপয়সা সরিয়ে কোনোদিন বিদেশে গিয়ে আরামে থাকার কথা চিন্তা করেছেন? আমার মনে হয় নি। এটি ওনার কাছে কোন অপশন না। এটি ওনার চিন্তাতেও আসে না। উনি এই দেশেই থাকবেন এবং গণভবনেই থাকবেন। প্রধানমন্ত্রীই থাকবেন। সেটার জন্য যা কিছু করা দরকার উনি করবেন। আবার বলছি - যা কিছু করা দরকার উনি করবেন।

৩) গত ৫/৭/১০ বছরে যে পরিমান দুর্নীতি হয়েছে তার কোন সীমা পরিসীমা নেই। অন্য যেকোনো সরকারের আমলের থেকে দুর্নীতির পরিমান কয়েক গুন বেশি। এই দুর্নীতির অংশীদার হচ্ছে আমলা, পুলিশ, বিচার বিভাগ, সামরিক বাহিনীর কর্তারা ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের নেতারা। এই দুর্নীতি করা হয়েছে নিজের ভবিষ্যতের জন্য, নিজের পরিবারের ভবিষ্যতের জন্য, নিজের বাচ্চাদের ভবিষ্যতের জন্য। যদি সরকার বদল হয় তবে এই দুর্নীতির টাকাপয়সা, সম্পদ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যাবে, তাই নয় কি? কাজেই ওনারা সকলে সাধ্যমত চেষ্টা করবেন যেন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থেকে যায়। ভবিষ্যতে যদি আর চুরি নাও করি, কম সে কম যেটুকু জমেছে সেটা তো বাঁচাতে হবে, তাই নয় কি? আমি হলে তো আওয়ামী লীগের পক্ষে ঝাঁপিয়ে পড়তাম চুরির টাকা বাঁচানোর জন্য। আপনি হলে কি করতেন, চিন্তা করেন তো? দুর্নীতির দায়ে ফেঁসে যাবো ভবিষ্যতে, নাকি বর্তমানে লড়াই করব যাতে ভবিষ্যতে আমাকে নিয়ে দুর্নীতির কোন প্রশ্নই না ওঠে?

৪) টুকটাক ইতিহাস পড়লে দেখবেন, আওয়ামী লীগ কোনোদিন, কখনোই বিরোধী দলকে বা গনতন্ত্রকে মূল্য দেয় নি। কখনোই না। আওয়ামী লীগ সবসময় সর্বময় ক্ষমতা চেয়েছে। বিরোধী মত পিষে ফেলা হচ্ছে আওয়ামী লীগের এক নম্বর এজেন্ডা - যখন তারা ক্ষমতায় থাকে। ১৯৫৪, ১৯৭০, ১৯৭১-১৯৭৫, ১৯৯৬-২০০১ - যে কোন সময়কাল আপনি বিবেচনায় নিতে পারেন। আওয়ামী লীগ কি বলছে সেটা জরুরি নয়, কি করছে বা কি করেছে তা দিয়ে বিচার করাটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। ইউটিউবে ভিডিও আছে দেখে নিতে পারেন। নায়ক ফারুক (মারা গিয়েছেন) গল্প করছেন কিভাবে উনি জাল ভোট দিয়েছেন ১৯৭০ এর নির্বাচনে, এবং কিভাবে শেখ মুজিব ওনাকে উৎসাহিত করেছিলেন এই কাজে। মুখে গণতন্ত্রের কথা বলা, আর কাজের বেলায় স্বৈরতান্ত্রিক কাজকর্ম করা - এটি আওয়ামী লীগের রাজনীতির ডি এন এ তে আছে।

৫) ভারত আওয়ামী লীগকে সমর্থন দেয়। প্রকাশ্য বা গোপনে। এই সমর্থন থাকবেই। এটি আওয়ামী লীগ জানে। এটি ডিফল্ট। এটি আত্মবিশ্বাস যোগায় আওয়ামী লীগকে।

৬) অ্যাকশন নিতে আওয়ামী লীগ চিন্তা করে না। ওনারা ঘটনা ঘটিয়ে তারপর ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন - সত্য মিথ্যা আবোল তাবোল যেভাবে হোক। আপনার আমার সেই বুকের পাটা নেই। আমরা চৌকির তলায় লুকিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুই একটা পোস্ট দেই বা অন্যজনের পোস্টে কমেন্ট করি। এর বেশি মুরোদ আমাদের নেই। সেটি আওয়ামী লীগ খুব ভালো করে জানে। শেখ হাসিনা বোঝেন এই দেশের মানুষের দৌড় কতদুর। কাজেই চৌকির তলায় লুকিয়ে থাকা মানুষদের ভয় পাওয়ার কিছু আছে কি? অতএব ওনারা অ্যাকশনে যান, আর আমরা কোনোরকমে লুকিয়ে চুরিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মন্তব্য করি যে "আল্লাহ বিচার করবে"।

আমার প্রোফাইলে এই প্রশ্নের কাছাকাছি ধরনের প্রশ্নের আরও উত্তর আছে। যদি সময় থাকে, ইচ্ছা হয়, তবে পড়ে দেখতে পারেন। হয়ত আমার পয়েন্ট অফ ভিউ আরেকটু পরিষ্কার হবে।

Post a Comment

Previous Post Next Post