Join Our Telegram Channel! আওয়ামী লীগের এতোটা ভারত ভক্তির কারণ কী? চলুন জেনে নেওয়া যাক!

Top News

আওয়ামী লীগের এতোটা ভারত ভক্তির কারণ কী? চলুন জেনে নেওয়া যাক!

 আওয়ামী লীগ তাদের রাজনৈতিক দৌড়ে বিভিন্ন সময়ে ভারতের সহযোগিতা পেয়েছে।


আওয়ামী লীগের বর্তমান প্রধান শেখ হাসিনার পুরো পরিবারকে ১৯৭৫ সালের ১৫ ই আগষ্ট হত্যার পর তিনি ভারতে ছিলেন।সেসময় সয়ং ইন্দিরা গান্ধী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন।তখন ভারতীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশেষত প্রনব মূখার্জি শেখ হাসিনা ও ড. ওয়াজেদ মিয়ার খুঁজখবর নিতেন।এছাড়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে অনেক সময় আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় তৎকালীন সরকারি দলের আগ্রাসনের শিকার হয়ে বিভিন্ন আওয়ামী লীগের নেতারা ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন।তাই ভারত ১৯৬০ সাল থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের জন্য সেকেন্ড হোমের মত।আওয়ামী লীগ সর্বদা ভারতকে নিজেদের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করেছে।ভারত হল দক্ষিণ এশিয়ায় কূটনৈতিক হাব।এখানে আওয়ামী লীগের নেতারা সহজে বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিকদের সঙ্গে এঙ্গেজ হতে পারে অর্থাৎ অনেকটা নিজের দেশের মত তারা ভারতের ভূমিতে অপারেট করতে পারে।ভারতের ভেতরে কংগ্রেস, বিজেপি, কমিউনিস্ট, তৃণমূল বাইপার্টিসান সাপোর্ট রয়েছে আওয়ামী লীগের প্রতি।অন্যদিকে ভারত সরকার বিএনপিকে কখনো এই স্পেস দেবে না।২০১৮ সালের নির্বাচনের পূর্বে বিএনপির নেতারা দিল্লিতে প্রেস কনফারেন্স করতে চেয়েছিল কিন্তু ভারত সরকার অনুমতি দেয় নি।তাই ভারতের ডিপ স্টেটের ভেতরে আওয়ামী লীগের প্রতি একধরনের গুড উইল রয়েছে তেমনি ভারতীয় ডিপ স্টেটের আওয়ামী লীগের ভেতরে লেভারেজ রয়েছে।আওয়ামী লীগের ভেতরের কিছু লোক ভারতের অধিক পছন্দের কিছু লোক পছন্দের নয়।

যেমন ২০২৪ নির্বাচনের পূর্বে আমেরিকান স্টেট ডিপার্টমেন্ট শেখ হাসিনা সরকারকে ফেলে দিতে চেষ্টা করেছে।স্টেট ডিপার্টমেন্টের ডোনাল্ড লু ও ভিক্টোরিয়া নোলান্ডরা অনেক চেষ্টা করেছে।কিন্তু মার্কিন ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল (NSC) স্টেট ডিপার্টমেন্টকে বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা দিতে দেয় নি।NSC এর মূল কর্তা জ্যাইক সুলেইভান খুবই ভারতপন্থী লোক এবং ভারতের প্রতি তার মমত্ব রয়েছে।

জ্যাইক সুলেইভানকে ভারতীয় সুরক্ষা উপদেষ্টা একাধিকবার অনুরোধ করায় বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে খুব শক্ত পদক্ষেপ নেয় নি বাইডেন প্রশাসন।এসকল ঐতিহাসিক বা সার্বিক কারনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ভাল।এখানে পারস্পরিক বিশ্বাসের জায়গা রয়েছে।কিন্তু তার অর্থ এই নয় আওয়ামী লীগ ভারতকে ভক্তি করে।

তবে হ্যাঁ আওয়ামী লীগ অনেক বিষয়ে ভারতের কঠোর সমালোচনা করতে পারত কিন্তু করে না।কারন আওয়ামী লীগ ফরেন পলিসিতে স্বভাবগত মৃদুভাষী।এটা তাদের কৌশল কারন ফরেন পলিসি জুমলাবাজির জায়গা নয়।সীমান্ত হত্যার মত ইস্যুতে আওয়ামী লীগ দেশের ভেতরে রেয়টিকের রাজনীতি না করলেও ভারতের কূটনৈতিক ক্যাবলে বিষয়গুলো উত্থাপন করে এবং বিগত বছরগুলোতে সীমান্ত হত্যা হ্রাস পেয়েছে।একসময় ২০১০ সালের পূর্বে সীমান্তে বিএসএফ এর গুলিতে মৃতের সংখ্যা ছিল ৫০ এর বেশি।এখন সেই সংখ্যা গড়পড়তা ২০ এর কাছাকাছি।হয়ত একসময় সীমান্ত হত্যা শূন্যে নেমে আসবে।

কিন্তু সর্বোপরি ভারতের উচিত নয় বাংলাদেশে একটি রাজনৈতিক দলকে এতটা কূটনীতিক সমর্থন দেওয়া।আওয়ামী লীগ একসময় তৃণমূলে অত্যন্ত জনপ্রিয় দল ছিল।কিন্তু বর্তমানে এটি একটি রাষ্ট্রযন্ত্র নির্ভর দলে পরিনত হয়েছে।তাই ভারতীয় ডিপ স্টেটের উচিত বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদী ইন্টারেস্ট দেখা।আওয়ামী লীগের নিজের স্বার্থে নিরেপক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দেওয়া উচিত।আওয়ামী লীগের বর্তমানে নির্বাচনে জেতা ২০০ জন এমপির মধ্যে ১৪৫ জন এমপি ব্যবসায়ী।আর এটি পুরো সংসদের চিত্র👇👇

এত ব্যবসায়ীরা সংসদে থাকলে সাধারন মানুষের স্বার্থ রক্ষা হবে না।তাই আওয়ামী লীগ বর্তমানে মতাদর্শিক আওয়ামী লীগ নেই বরং এটি একটি ক্যাপিটালিস্টদের দলে পরিনত হয়েছে।তাই ভারত সরকারের উচিত হবে বাংলাদেশে লিবারেল ডেমক্রেসি ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করা।

SOAS এর প্রফেসর অভিনাশ পালিওয়াল এর মতে ভারত আওয়ামী লীগকে সমর্থন করার প্রধান কারন তিনটি👇👇

  • ভারত মনে করে আওয়ামী লীগের শাসনে বাংলাদেশে হিন্দুরা নিরাপদ থাকে।
  • আওয়ামী লীগ ভারত বিরোধী বিচ্ছন্নতাবাদীদের আশ্রয় প্রশ্রয় দেয় না।
  • আওয়ামী লীগ সরকার ভারতকে ট্রানজিট দিচ্ছে যা নর্থ ইস্টের ইকোনমির জন্য ভাল।

কিন্তু এই তিন বিষয় টেকসই হবে না যদি বাংলাদেশের গনতন্ত্র, সুশাসন, ন্যায় বিচার না থাকে।গনতন্ত্র ছাড়া ধর্ম নিরেপক্ষতার মৃত্যু হয় এবং ধর্ম নিরেপক্ষতা ছাড়া সংখ্যালঘুরা ভাল থাকবে না।বাংলাদেশ তার ব্যতিক্রম নয়।

ভারতীয় ডিপ স্টেটের উচিত বিএনপির সঙ্গে সিরিয়াস নেগশিয়েশনে যাওয়া।বিএনপি যদি তাদের এলাইন্স জামাত ইসলামির সঙ্গে ছিন্ন করে তাহলে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি সম্ভব।এছাড়া বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের উচিত New World Order বুঝার চেষ্টা করা।তারা ২০০১ এ যে ধরনের রাজনীতি করেছে সেটা এখন সম্ভব নয়।তাদের উচিত পাকিস্তানপন্থী রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসা।

Post a Comment

Previous Post Next Post